Tuesday, December 6, 2022

করিমগঞ্জে লাচিত দিবসের সমাপ্তি অনুষ্ঠান দিল্লি থেকে সরাসরি সম্প্রচার , বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত

জনসংযোগ, করিমগঞ্জ, ২৫ নভেম্বর : বীর লাচিত বরফুকনের ৪০০তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে করিমগঞ্জে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কার্যসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সপ্তাহব্যাপী কার্যসূচির সমাপ্তি অনুষ্ঠান শুক্রবার করিমগঞ্জে জেলা গ্রন্থাগার প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের ব্যবস্থাপনায় নতুন দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানের সমাপ্তি অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করে প্রদর্শন করা হয়। নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সমাপ্তি অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এতে তিনি লাচিত বরফুকনের বীরত্ব, দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ নিয়ে ভাষণ প্রদান করেন। তিনি বলেন যে ভারতবর্ষের ঐতিহ্য ও পরম্পরায় ‘দেশ সর্বোপরি’ এই ভাবনা গাঁথা রয়েছে। লাচিত বরফুকনের দেশ মাতৃকার জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ওই সময়ে মুঘলদের সাথে অল্প সংখ্যক সৈন্য নিয়ে বিজয়ী হওয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তিনি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বীর লাচিত বরফুকনকে জাতীয় মহানায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করে রাজ্য সরকার থেকে এই মহান ব্যক্তিত্বের ভাবধারাকে প্রচার করতে নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী রাজ্য সরকারকে এই মহান ব্যক্তিত্বের আদর্শ সমগ্র দেশ জুড়ে প্রচার করতে পরামর্শ দেন। নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ভাষণ প্রদান করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী ড হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কেন্দ্রীয় জল পরিবহন ও আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।

স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন রাজ্যের জল সম্পদ ও তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা। অনুষ্ঠানে আসামের রাজ্যপাল জগদীশ মুখি, আসাম বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ দৈমারি, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ সহ রাজ্যের মন্ত্রী, বিধায়কগণ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এতে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী ড হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আসামে পরম্পরাগত ভাবে তৈরি এডি মুগার চাঁদর, গামছা, লাচিত বরফুকনের মূর্তি ও তরোয়াল দিয়ে সংবর্ধনা জানান।

এর আগে বিজ্ঞান ভবনে রাজ্য সরকার থেকে প্রদর্শিত লাচিত বরফুকনের ইতিহাস নিয়ে এক প্রদর্শনী প্রধানমন্ত্রী ঘুরে দেখেন। এদিকে করিমগঞ্জে শুক্রবার নতুন দিল্লির সমাপ্তি অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচারের আগে সপ্তাহ ব্যাপী কার্যসূচিতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। এতে অঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী ও নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী এই তিনটি গ্রুপের প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত, তাৎক্ষণিক বক্তৃতায় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের পুরস্কৃত করা হয়।

এদিকে ফেন্সি ড্রেস প্রতিযোগিতায় দুইটি গ্রুপে, রচনা প্রতিযোগিতায় চারটি পর্যায়ে প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্হানাধিকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। এতে নাটক, সঙ্গীত, নৃত্য প্রতিযোগিতায় এবং খেলাধুলা ব্যালেন্স রেইস, ব্লাইন্ড হিট প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদেরও পুরস্কৃত করা হয়।

এই অনুষ্ঠানে করিমগঞ্জের জেলাশাসক মৃদুল যাদব, এএসটিসির চেয়ারম্যান মিশন রঞ্জন দাস, পৌরপতি রবীন্দ্র চন্দ্র দেব, উপ পৌরপতি সুখেন্দু দাস, এডিসি বিপুল দাস, রিন্টু বড়ো, জেমস এইন্ড, জে কে বর্মণ, অতিরিক্ত পুলিশ অধীক্ষক পার্থপ্রতিম দাস, ডিএফও বসন্তন বি, সহকারি আয়ুক্ত বহ্নিখা চেতিয়া, সহকারি আয়ুক্ত ও পৌরসভার কার্যবাহি আধিকারিক বিক্রম চাষা, ডিসি অফিসের ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট অফিসার দেবজ্যোতি শর্মা, দৈনিক নববার্তা পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগীয় আধিকারিক, কর্মচারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষক শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রীসহ শহরের নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এদিনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ভাস্কর দেব।

Latest Updates

RELATED UPDATES