Monday, October 3, 2022

কাছাড় জেলার মেডিকেল ক্যাম্পে মিশন ডিরেক্টর ডাঃ এম লক্ষ্মী প্রিয়া

জনসংযোগ, শিলচর,২৮ জুন:—কাছাড় জেলার ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে মেডিকেল ক্যাম্পে বিশেষ পর্যবেক্ষণ পরিদর্শন করতে আইএএস মিশন ডিরেক্টর ডাঃ এম লক্ষ্মী প্রিয়া,আসামের মেডিকেল এডুকেশন ডিরেক্টর ডাঃ অনুপ কুমার বর্মণ,স্বাস্থ্যপরিষেবা যুগ্ম পরিচালক ডাঃ আশুতোষ বর্মণ, শিলচর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ বাবুল বেজবড়ুয়া সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ অভিজিত স্বামী এবং এসএমডিসিএইচ সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ অলোকা নন্দ নাথ জেলার মেগা বন্যা মেডিকেল ক্যাম্পে বিশেষ পর্যবেক্ষণ করেন।

গত ১৮ জুন থেকে কাছাড় জেলা প্রবল বন্যা পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। প্রায় সমস্ত ব্লক পিএইচসি এবং শিলচর শহরই ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত। শিলচরের সমস্ত ২৮টি ওয়ার্ড বন্যায় আক্রান্ত, শিলচরকে জেলার অন্যান্য অংশের সাথে এবং অন্যান্য জেলার সাথে সংযোগকারী সমস্ত রাস্তা বন্যার জলে তলিয়ে গেছে। শিলচর ও কাছাড়ের অন্যান্য গ্রামে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সামলাচ্ছে জেলা প্রশাসন।

যেহেতু বন্যা খুব বড় তাই জেলাটি রাজ্য সদর থেকে সব ধরনের সাহায্য পেয়েছে। এলাকায় বন্যার কারণে চিকিৎসা পরিষেবা প্রভাবিত হয় কারণ শিলচরের সাথে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সংযোগকারী প্রধান রাস্তাগুলি জলের তলায় রয়েছে এবং কোনও যোগাযোগ স্বাভাবিক অবস্থায় নেই।

শিলচর শহরের মানুষের চিকিৎসা সুবিধার উন্নতির জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আসামের মিশন ডিরেক্টর ডাঃ এম লক্ষ্মী প্রিয়া একটি মেগা প্লেন প্রস্তুত করেন, এর জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ২০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং শিলচর মেডিকেলের ২৮ জন চিকিৎসককে রাখা হয় । পরিস্থিতি মোকাবিলায় কলেজ ও হাসপাতাল নিয়োজিত রয়েছে।

মিশন ডিরেক্টরের নির্দেশে ২৮টি টিম তৈরি করা হয়েছে যারা শিলচর শহরের ২৮টি ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছে। ভোর ৬ টায় সব দলই শুরু করতে প্রস্তুত, সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে; প্রতিটি দলের জন্য ২৮টি গাড়ি নিয়োজিত, ওষুধের প্যাকেট তৈরি, বসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ড. লক্ষ্মী প্রিয়া দলের নেতৃত্ব দেন এবং সকাল সকাল ২৮ টি দলের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। সমস্ত দল সকাল ৭ টার মধ্যে কাজে নেমে পড়েন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী শিলচর শহরের মোট ১৪০টি স্থানে প্রতি দলে ৫ টি স্পট পরিদর্শন করে ।

ডাঃ লক্ষ্মীপ্রিয়া, বিভিন্ন স্পটে মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং ক্যাম্পে সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন, তিনি বলেন, টিম যথাযথভাবে সেবা প্রদান করছে এবং বন্যা পরবর্তী রোগ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হয়েছে’, সকল রোগীদের ডায়রিয়া প্রতিরোধের জন্য ওআরএস প্রদান করা হয় এবং বিশুদ্ধ জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয় যা তাদের যেকোনো জলবাহিত রোগ থেকে রক্ষা করবে।

দিনে মোট ৭২১২ ওপিডি পরিষেবা শিলচর শহরে মেডিক্যাল টিম দ্বারা চিকিৎসা শুরু করা হয়। ক্যাম্প চলাকালীন কয়েকজন রোগীকে খুব অসুস্থ পাওয়া গেছে, সেসব রোগীর জন্য মিশন পরিচালকের পরামর্শে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এসএমসিএইচ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে

108 অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্যে রোগীকে আরও চিকিৎসার জন্য এসএমসিএইচ-এ রেফার করা হয়। বন্যার স্বাভাবিক অবস্থার প্রয়োজনে আগামী ৭ দিনের জন্য মেডিকেল ক্যাম্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অধিদপ্তরের এই উদ্যোগে শিলচরের মানুষ খুশি এবং চিকিৎসা সেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ।

Latest Updates

RELATED UPDATES