Monday, October 3, 2022

কুমির আতঙ্ক গোটা লিঙ্ক রোড জুড়ে!

ডোবা থেকে উদ্ধার বন বিভাগের

হৃদয় দেবনাথ : শিলচর শহরের লিঙ্ক রোড এলাকায় দুদিন ধরে রয়েছে কুমিরের আতঙ্ক৷ রবিবার দুপুরে social media-য় একটি ছবি viral হয়, সেখানে কুমিরের আকারের এক অদ্ভুত প্রাণী দেখা যায়৷ তবে ছবি দেখে পরিবেশবিদরা বলেন, এটি একেবারেই কুমির নয় বরং গোসাপ প্রজাতির একটি প্রাণী যাকে monitor lizard-ও বলা হয়৷ সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রবিবার দুপুরে ২য় লিঙ্ক রোডের ৫ নং গলিতে একটি নালায় হঠাৎ অদ্ভুত প্রাণীটি দেখতে পান এলাকাবাসীরা৷ কিছু লোক উৎসাহিত হয়ে photo তুলতে এগিয়ে যেতেই প্রাণীটি লুকিয়ে পড়ে একটি ডোবায়৷

যেহেতু পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়নি প্রাণীটি আসলে কুমির না অন্য কিছু, এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক৷ বন্যা চলাকালীন social media-য় কিছু FAKE POST ঘুরে বেরিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে লিঙ্ক রোড সহ শহরের কিছু এলাকায় ভেসে এসেছে কুমির! এতে আগে থেকেই জনমনে আতঙ্ক ছিল, এবার অদ্ভুত প্রাণীর উপস্থিতিতে আতঙ্ক আরও ছড়িয়ে পড়ে৷ শেষমেষ বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রাণীটি উদ্ধারের জন্য অভিযান চালানো হয়৷ সোমবার বিকেলে তারা এলাকার এক ডোবা থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন প্রাণীটিকে৷

বিভাগীয় আধিকারিক তেজস মরিস্বামী জানিয়েছেন, এই ধরণের প্রাণী উত্তর-পূর্ব সহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে এবং তাদের উপস্থিতি খুবই স্বাভাবিক৷ তিনি বলেন, ‘প্রাণীটি ভারতবর্ষে monitor lizard হিসাবে পরিচিত এবং এরা কাউকে ক্ষতি করে না৷ বন্যায় শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকা ডুবে যাওয়ার ফলে হয়তো প্রকাশ্যে আসতে হয়েছিল একে৷ আমরা সোমবার প্রাণীটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছি এবং একটি নিরাপদ স্থানে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷’ স্থানীয় পরিবেশবিদদের মতে প্রাণীটিকে পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় ‘গোসাপ’ বলা হয়৷ Wikipedia-র তথ্য অনুযায়ী এটি টিকিটিকি প্রজাতির প্রাণী৷ যাকে সরীসৃপ হিসাবে গণ্য করা হয় না৷ এরা মূলত কাঁকড়া, শামুক, মাছ, কচ্ছপ ইত্যাদি খেয়ে জীবনধারণ করে৷ কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইঁদুর, হাঁস-মুরগির ডিম এবং পচাগলা প্রাণী দেহ খায় এটি৷

আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা পরিবেশবিদ পার্থঙ্কর চৌধুরীর মতে এটি asian water monitor হিসাবে প্রসিদ্ধ৷ ভারত ও বাংলাদেশ সহ এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশে প্রাণীটি চোখে পড়ে৷ কৃষিজমির আশপাশে এদের দেখতে পাওয়া যায় কেননা সেখানে মাছ এবং ইঁদুর সহ ছোট ছোট প্রাণী শিকার করে খায় এরা৷ তিনি বলেন, ‘বন্যার ফলে বিভিন্ন এলাকার জলে প্লাবিত হওয়ায় হয়তো এটি খাবারের খোঁজে লোকালয়ে চলে এসছিল৷ তবে এরা মানুষের কোন ক্ষতি করে না

Latest Updates

RELATED UPDATES