Monday, October 3, 2022

গুরু সূর্যের মত, তাঁর প্রকাশে কোনও কিছুর প্রয়োজন হয় না : রামভদ্রানন্দজি

করিমগঞ্জে সরস্বতী বিদ্যানিকেতনে বিবেকানন্দ কেন্দ্র কন্যাকুমারী, করিমগঞ্জ নগরস্থানের ‘গুরু পূর্ণিমা’ উৎসব পালিত

পাঞ্চজন্য রায়, করিমগঞ্জ : সনাতন হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসারে গুরু পূর্ণিমা উৎসব পালিত হয় করিমগঞ্জে৷ বিবেকানন্দ কেন্দ্র কন্যাকুমারীর করিমগঞ্জ নগরের উদ্যোগে শহরের সরস্বতী বিদ্যানিকেতনে গুরু পূর্ণিমা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জগদ্গুরু বেদব্যাসকে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করা হয়৷

এরপর কেন্দ্রের নগর প্রমুখ মৃণালকান্তি দত্তের পৌরোহিত্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ প্রধান বক্তা করিমগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী রামভদ্রানন্দজি মহারাজ গুরু পূর্ণিমা দিবস পালনের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্যে বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতির গুরু পরম্পরা মেনে চলতে হবে৷ আমাদের শক্তি হচ্ছে সংস্কার সংস্কৃতি৷ সনাতন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরো জাগ্রত করতে হবে৷ গুরুরা অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসেন আমাদের৷ কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিক্ষা গুরুকে অনেকেই ভুলে যান৷ গুরুর প্রতি সম্মান জানালে প্রকৃত সম্মান লাভ হবে৷

করিমগঞ্জ কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ রাধিকা রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, গুরুপূর্ণিমা দিবসকে জাতীয় দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হোক৷

বক্তব্যে বলেন, মহর্ষি বেদব্যাস প্রথম মানবজাতিকে ৪টি বেদের জ্ঞান দিয়েছিলেন৷

তিনি বলেন, বেদব্যাসের জন্মদিনই গুরুপূর্ণিমা হিসেবে পালিত হয়ে আসছে৷ মহর্ষি বেদব্যাস বেদকে ৪ ভাগে ভাগ করেছিলেন৷ যেমন, ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ৷ পুরাণকে তিনি ৫ম বেদ হিসাবে আখ্যা দিয়েছিলেন৷ বেদব্যাস অনুমান করতে পেরেছিলেন, বর্তমান সময়ে মানুষ ধর্মকর্মে আকর্ষণ হারাবে৷ হারাবে ভগবানের প্রতি বিশ্বাস৷ এসব মানুষকে সঠিক পথ দেখাতে বেদকে ৪ ভাগে ভাগ করেন এবং লেখা হয় মদ্ভাগবত গীতা, মহাভারত৷

তিনি বলেন, একমাত্র গুরুই মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসেন৷ মহান গুরুদের পথ অনুসরণ করে জীবনে চলার জন্য তিনি আহ্বান জানান৷

প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন ASTC chairman মিশনরঞ্জন দাস, পৌরপতি রবীন্দ্রচন্দ্র দে প্রমুখ৷

Latest Updates

RELATED UPDATES