Wednesday, September 28, 2022

জেলে পুরে দেব, সেচ কৰ্তাকে ধমক কীৰ্তির

নিজস্ব প্ৰতিবেদন, ২৯ জুন: সেচ বিভাগের গাফিলতিতেই কি ডুবল শহর? বুধবার বেতুকান্দির সেই বিতৰ্কিত বাঁধের সামনে দাঁড়িয়ে জেলাশাসক কীৰ্তি জল্লি সেচ বিভাগের আধিকারিকদের প্ৰকাশ্যে একের পর এক তোপ দেগে এমনটাই বুঝিয়ে দিলেন৷ এ দিন দুপুরে বেতুকান্দিতে বাঁধ মেরামতের কাজ কীভাবে চলছে সেটা দেখতে যান কীৰ্তি৷

সেখানে তখন শুধুই জলসম্পদ বিভাগের ১২০ জন মতো কৰ্মী জিও ব্যাগ বসানো সহ অন্য কাজ করে চলেছেন৷ রয়েছেন আধিকারিকরা৷ কিন্তু সেচ বিভাগের কেউ সেখানে নেই৷ স্থানীয়রাও অভিযোগ করেন, আধিকারিক তো দূর সেচ বিভাগের কোনও কৰ্মীকেও এই ক’দিন এখানে দেখা যায়নি৷ অথচ স্লুইস গেটের যে চেম্বার অৰ্ধেক বানিয়ে ফেলে রেখেছে সেচ বিভাগ, সেটির বন্ধ শাটার না খোলা হলে মহিষাবিলের জল বরাকে নামবে না৷ এতেই রেগে যান জেলাশাসক৷ তিনি সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেন সেচ বিভাগের শিলচর ডিভিশনের নিৰ্বাহী বাস্তুকার দীপক গোস্বামীকে৷ কেন তিনি বেতুকান্দিতে এলেন না, কেন তাঁর বিভাগের একজন কৰ্মীও নেই, এ নিয়ে ফোনেই চোটপাট করেন ডিসি৷

দীপকবাবু কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে হন্তদন্ত হয়ে চলে আসার পর ডিসি তাঁকে সবার সামনে বলেন, ‘এই প্ৰতিজ্ঞা করে রাখলাম। আপনাকে সাসপেন্ড তো করবই, আপনাকে জেলেও পুরে দেওয়া হবে৷’ নিৰ্বাহী বাস্তুকার, সুপারিটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়াররা যাতে বেতুকান্দিতে থেকে কাজে সহযোগিতা করেন, সেটা দেখার দায়িত্বও জলসম্পদ বিভাগের এক কৰ্মীকে দিয়ে যান ডিসি৷ কীৰ্তি জল্লি কাদা মাড়িয়ে বাঁধের যে অংশে জিও ব্যাগ বসানোর কাজ চলছে, সেটি ঘুরে দেখেও আসেন৷

এ দিকে জলসম্পদ বিভাগের এক সূত্ৰে জানা গেছে, স্লুইস গেটের অৰ্ধনিৰ্মিত চেম্বারের দু’পাশ ভরাট করার কাজ বুধবার রাতেই মধ্যেই গুটিয়ে আনা হবে৷ তবে সূত্ৰটি একই সঙ্গে এটাও স্বীকার করে নেন যে বৰ্ষায় জিও ব্যাগ বসিয়ে কতটুকু লাভ হবে এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে৷ প্ৰবল বন্যার পর প্ৰশাসনের বিরুদ্ধে যেভাবে শহরজুড়ে জনরোষের উদগীরণ ঘটছে, সেটাকে চাপা দেওয়ার জন্য এই কাজে হাত দেওয়া হয়েছে কিনা, ভরা বৰ্ষায় এই কাজে আখেরে কোনও লাভ হবে কিনা, এই প্ৰশ্নগুলি কিন্তু থেকেই যাচ্ছে৷

প্ৰশ্ন উঠছে আরও নানা বিষয়ে৷ ২২ মে মধ্য রাতে বাঁধ কেটে দেওয়া হয়৷ সূত্ৰে জানা গেছে, ২৪ মে জলসম্পদ বিভাগ থেকে একটি এফআইআর করা হয়েছিল৷ সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে, মূলত এই অভিযোগেই এফআইআর৷ এরপর জলসম্পদ বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার বরসিং রংপি থেকে শুরু করে জেলার আধিকারিকরা জায়গাটি একাধিকবার ঘুরে দেখে এসেছেন৷ বিধায়ক দীপায়ন চক্রবৰ্তীও গিয়েছিলেন, তিনি সেখানে আধিকারিকদের বলেন, যেভাবে সম্ভব কাজ শুরু করা হোক৷ সেটা মে মাসের শেষ দিকের কথা৷ কিন্তু ওই সময়ই জলসম্পদ বিভাগের আধিকারিকরা তাঁকে বুঝিয়ে বলেন, জলের এই স্ৰোতের মধ্যে কাজ করা সম্ভব নয়, করলেও আখেরে তাতে লাভ হবে না৷ ফলে প্ৰশ্ন ওঠে, জুনে যেখানে তুমুল বৃষ্টি চলছে এবং নদীতেও খরস্ৰোত সেখানে এখন স্লুইস গেটের অৰ্ধনিৰ্মিত চেম্বারে জিও ব্যাগ বসিয়ে আখেরে কতটুকু লাভ হবে?

জেলাশাসক নিৰ্দেশ দিয়েছেন, যেভাবে হোক কাজ চালিয়ে যেতে হবে৷ কিন্তু কাজের কোনও এস্টিমেট করা নেই, কোনও বাজেট অ্যালোকেশন নেই, ফলে এ ক্ষেত্ৰে প্ৰশাসনিক গেরোও যে রয়েছে, সেটাও জলসম্পদ বিভাগের একটি মহল মনে করছে৷

জেলাশাসক এদিন অৰ্ধনিৰ্মিত স্লুইস গেটটি দেখে বিস্ময় প্ৰকাশ করেছেন। কেন ছয়-সাত বছরে মাত্ৰ ৩০ শতাংশ কাজ হল? সত্যিই তো! ছয়-সাত বছরে কেন কাজ শেষ করা গেল না? সেচ বিভাগের নিৰ্বাহী বাস্তুকার নিজেই বলেছেন, ঠিকাদার পেমেন্ট পাননি বলে কাজ শেষ করতে পারেননি৷ তা হলে জেলাশাসক থেকে শুরু করে সাংসদ-বিধায়করা এতদিন কী করেছেন? কেন তাঁরা এতদিন জানতেই পারলেন না যে মহিষাবিল এমন বিপৰ্যয় ডেকে আনতে পারে? সেচ বিভাগের কাছে তাঁরা এতদিন কাজে বিলম্বের কোনও কৈফিয়ৎ চেয়েছিলেন কি? প্ৰশাসন ও জনপ্ৰতিনিধিদের যদি এমন ‘চোর গেলে বুদ্ধি বাড়ে’ অবস্থা হয়, তাহলে শহর তো ডুববেই৷

Latest Updates

RELATED UPDATES