Wednesday, September 28, 2022

ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে লিখে দিয়েছেন ব্যাথা কমার ইনজেকশন, আইডিয়েল ড্রাগ্স রোগীকে মেরে দিয়েছে প্রস্রাব বাড়ার ইনজেকশন

মিনহাজুল আলম তালুকদার : ব্যঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে করিমগঞ্জ শহরের যত্রতত্র ফার্মাসির বাজার। আর এর মধ্যে অধিকাংশ ফার্মাসি উঠন্তি যুবক বা অপারদর্শী লোকদের দিয়ে চালানো হয়। প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় দেখা যায় এই উঠন্তি যুবক বা অপারদর্শী লোকদের মারাত্মক ভুলের কারণে রোগীকে চরম ভুক্তভোগী হতে হয়।

এরকম এক ভূতুড়ে আজগুবি কাণ্ড করে দেখাল করিমগঞ্জ মাইজডিহির আইডিয়েল ড্রাগ্সের এক উঠন্তি ফার্মাসিস্ট। ডাক্তার রোগীর প্রেসক্রিপশনে লিখে দিয়েছেন ব্যাথা উপশম হওয়ার ইনজেকশন Saradik আর আইডিয়েল ড্রাগ্সের এই যুবক রোগীর শরীরে মেরে দিয়েছে প্রস্রাব বাড়ার ইনজেকশন Lasix.

উল্লেখ্য, গত জুন মাসের ২২ তারিখ বরাক উপত্যকা সর্বধর্ম সমন্বয় সভার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আমির হোসেনের শরীরের জোড়ায় জোড়ায় প্রচণ্ড ব্যাথা অনুভব করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে মাইজডিহির ডা: মোস্তফা আহমেদের কাছে রোগ দেখাতে যান। ডাক্তার তাকে প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়ার পর তিনি ডাক্তারের ফার্মাসি থেকে ওষুধ কেনেন।

টাকা দেওয়ার সময় ফার্মাসিস্ট তাকে জানায়, আপনার প্রেসক্রিপশনে ব্যাথা কমার একটা ইনজেকশন রয়েছে। এটা তাদের কাছে নেই। অন্য কোথাও থেকে কিনে নেওয়ার জন্য আমির হোসেনকে বলে দেয়। পরে তিনি মাইজডিহি পয়েন্টের Ideal Drugs-এ গিয়ে প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ইনজেকশনের কথা জানতে চাইলে উঠন্তি এক ফার্মাসিস্ট বলে- ইনজেকশনটি রয়েছে তাদের দোকানে।

জানায় প্রেসক্রিপশনে পাঁচটি লিখা রয়েছে, দাম ১১টাকা করে। পরে আমির হোসেন ফার্মাসিস্টকে বলেন একটা ইনজেকশন এখন মেরে দিতে আর বাকি চারটি তার হাতে দিয়ে দিতে। ইনজেকশন মারার একটু পর থেকে আমির হোসেনের মারাত্মক প্রস্রাব বেড়ে যায়। এইভাবে প্রস্রাব হতে থাকে পরের দিন বিকাল পর্যন্ত। ব্যাথা উপশম হওয়া তো দূরের কথা। পরে তার সন্দেহ দেখা দিলে অন্য এক ফার্মাসিস্টকে তিনি ডেকে এনে এবিষয়ে অবহিত করেন। তার প্রেসক্রিপশন নিরীক্ষণ করার পর উনি জানান, প্রেসক্রিপশন আর এই ইনজেকশনে মিল নেই।

বলেন, প্রেসক্রিপশনে লিখা রয়েছে ব্যাথা উপশম হওয়ার ইনজেকশন Saradik আর Ideal Drugs মেরে দিয়েছে প্রস্রাব বাড়ার ইনজেকশন Lasix এই ভূতুড়ে কাণ্ড ধরা পড়ার পর তার মারাত্মক অসুস্থতার কথা উক্ত ফার্মাসি সহ স্থানীয় বিশিষ্টজনদের জানানো হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো বিচার পাননি তিনি। এই ইনজেকশন নেওয়ার পর থেকে আমির হোসেনের অসুস্থতা মারাত্মক রূপ ধারণ করে। বর্তমানে তার হাত-পা অকেজো হয়ে পড়েছে। হাঁটা চলা প্রায় বন্ধ। গৃহ বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন আমির হোসেন।

এই ঘটনার উপযুক্ত তদন্তক্রমে বিহিত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলাশাসক, পুলিশ সুপার সহ স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সঞ্চালকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানান সর্বধর্ম সমন্বয় সভার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আমির হোসেন। বিচার না পেলে পরবর্তীতে আইডিয়েল ড্রাগ্সের বিরুদ্ধে আইনি মামলাও করতে পারেন বলে জানিয়ে রাখেন তিনি।

Latest Updates

RELATED UPDATES