Monday, October 3, 2022

‘মাতৃদুগ্ধ অমৃত সমান’, ডা. লিপি দেব: ১ থেকে ৭ আগস্ট করিমগঞ্জে বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ পালন

জনসংযোগ, করিমগঞ্জ, ১আগস্ট: ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ পালনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে করিমগঞ্জেও ১ আগস্ট, সোমবার বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ পালনের সূচনা করা হয়েছে। মাতৃদুগ্ধ পান করানোর উপকারিতা এবং এ সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে সোমবার করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে এই সপ্তাহ পালন উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মাতৃ ও শিশুদের নিয়ে এই সপ্তাহ পালনের শুভ সূচনা করা হয়।

এর পৌরহিত্য করে করিমগঞ্জের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. লিপি দেব জানান যে প্রতিজন মা নিজের শিশুকে স্তন্যপান করানো একান্ত জরুরী। তিনি বলেন শিশুর জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মাতৃদুগ্ধ পান করানো অত্যন্ত জরুরি কারণ মাতৃদুগ্ধই শিশুর বিভিন্ন রোগ ও সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। এতে তিনি মাতৃদুগ্ধকে অমৃত সমান বলে উল্লেখ করে জানান যে ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে কেবল মাতৃদুগ্ধই পান করানো উচিত। মা যদি সুস্থ থাকেন এবং শিশুর জন্মের প্রথম ৬ মাস মাতৃদুগ্ধ পান করান তাহলে শিশুর অন্য কোন খাবারের প্রয়োজন হয় না।

বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহের সূচনা অনুষ্ঠানে শিশুদের নিয়ে মায়েরা৷ সোমবার, করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে৷

মাতৃদুগ্ধ শিশুর জন্য পুষ্টিকর আহার তাই শিশুকে ৬ মাস পর্যন্ত অন্য কোন বিকল্প আহার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকা ভাল। ৬ মাস সম্পূর্ণ হওয়ার পর মাতৃদুগ্ধের সঙ্গে শিশুকে অন্য খাওয়ার খাওয়ানো যাবে।

তাই তিনি প্রতিটি মায়েদের স্তন্যপান করানো সম্পর্কে সচেতন হতে এবং সচেতনতার বার্তা অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানান।

এতে অংশগ্রহণ করে বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ বিশ্বাস মাতৃদুগ্ধ পান করানোর উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জানান যে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ফলে মায়েদের অনেক ধরনের স্ত্রীরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব, এমনকি ক্যান্সারের মতো মারণ ব্যাধির প্রবণতাও কমে যায়। এতে তিনি বিস্তারিতভাবে বলেন যে শিশুর জন্মের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে হয় এর ফলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। মাতৃদুগ্ধে অনেক ধরনের ভিটামিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে যা শিশুদের সর্দি, কাশি, পেটের রোগ সহ অনেক ধরনের অসুখ থেকে রক্ষা করে।

তিনি আরও জানান যে মায়েদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস, যক্ষা, এইডস, থাইরয়েড ইত্যাদি যেকোনো রোগ থাকলেও মাতৃদুগ্ধ পান করানো যাবে। অনুষ্ঠানে ডা. বিশ্বাস প্রতিটি মাতৃকে সব ধরনের দ্বিধাবোধ ত্যাগ করে নিজে এবং শিশুকে স্বাস্থবান ও রোগমুক্ত রাখতে স্তন্যপান করাতে আবেদন জানান। পাশাপাশি মাতৃদের নিজ নিজ এলাকায় মাতৃদুগ্ধ পান করানো সম্পর্কে উৎসাহিত করতে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. প্রীতম দাস মাতৃদুগ্ধকে শিশুর জন্য পুষ্টি ও শক্তির আধার বলে জানান। এতে তিনি মায়ের দুধের কোন বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন। তাই তিনি শিশুর জন্মের পর থেকেই ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ পান করাতে আহ্বান জানান এবং অন্যদেরকেও উৎসাহিত করতে আবেদন রাখেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে ডিস্ট্রিক্ট ইমিউনাইজেশন অফিসার ডা. এম এন গগৈ মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা নিয়ে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন এবং মা ও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য মাতৃদুগ্ধ পান করানোর গুরুত্ব অপরিসীম বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে আসা স্বাস্থ্য কর্মীরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

Latest Updates

RELATED UPDATES