Wednesday, September 28, 2022

হিমন্ত-মমতা-ধনখড় ‘সৌজন্য সাক্ষাত’ বৈঠক দার্জিলিং তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা ও অসম : কোনও রাজনৈতিক কথাই হয়নি প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে! নেহাতই সৌজন্যমূলক আলোচনা। সঙ্গে চা-বিস্কুট খাওয়া। বৈঠকে উপস্থিত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। অতিথি আপ্যায়নে খোদ পশ্চিম বাংলার রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। স্থান: দার্জিলিঙে থাকা রাজভবন।

বুধবার দার্জিলিংয়ের রাজভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজভবনের আতিথ্যে চা খেয়েছি। সঙ্গে বিস্কুটও।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তিনি যখন অসমে গিয়েছিলেন তখন হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাঁকে সম্মান জানিয়েছিলেন। তাই তিনিও সৌজন্য দেখিয়েছেন।
আলোচনা শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যাপারটিকে নেহাতই সৌজন্য মুলক বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি রাজ্য। আমার মনে হয়, আমাদের সম্পর্ক রাখা উচিত। এই বাংলার অনেকে অসমে থাকে, অসমের অনেকে বাংলায় থাকে। তাই দুই রাজ্য সরকারের মধ্যে যোগাযোগ থাকা উচিত।’
মমতার কথায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দুই মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে কোনও কথা হয়নি।

এদিকে জানা যায়, এই বৈঠক আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না। আজ সকালেই দার্জিলিংয়ে পৌঁছন রাজ্যপাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজভবনে ডেকে নেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। আগে থেকেই রাজ্যপালের আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। ফলে জল্পনা ছড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হিমন্তের বৈঠক হতে চলেছে। যদিও পশ্চিমবাংলার শাসক দল তৃণমূল সূত্রে বিষয়টিকে নিছক সৌজন্য বলেই দাবি করা হয়েছে।

এদিন ছিল দার্জিলিংয়ের স্ব-শাসিত পরিষদ (জিটিএ) বোর্ডের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।

জিটিএ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য আগেই পাহাড়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও ওই একই কারণে বুধবার দার্জিলিংয়ে পা রেখেছেন। রাজ্যের এই দুই হেভিওয়েটের পাহাড় সফর প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু এদিন খানিক অপ্রত্যাশিতভাবে আরও এক হেভিওয়েট পাহাড়ে গিয়েছেন। তিনি হলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়া হঠাৎ যে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়েছেন তা মোটেই মানতে রাজি নন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, হিমন্তের মতো ডাকসাইটে মুখ্যমন্ত্রী প্রচন্ড দাবদহে শুধু পাহাড়ের ঠান্ডা হাওয়া খেতে যাওয়ার লোক নন! তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ মূল্যবান ও অংক কষে চলা! কাজেই তাঁরা মমতার যুক্তি মানতে রাজি নন।

দোরগোড়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। হতেই পারে এ রাজ্যের দাপুটে মুখ্যমন্ত্রীর কাঁধে দায়ভার দেওয়া হয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য! এমনটা বিচিত্র নয়, কারণ বেশ কয়েক বছর ধরে বিজেপির উত্তর পূর্বাঞ্চলের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’ সামাল দিচ্ছেন একা ড° হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এমন বৃহৎ দায়ভার সামাল দিতে তিনি যথেষ্ট পরিপক্ক। নয়তো নেহাতই বাংলার রাজ্যপাল অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে ডাক দিবেন তা হয় না!

একটা সময় পাহাড়জুড়ে এ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। এই নিয়ে তোলপাড় হয় বাংলা ও অসমের রাজনীতি।

যদিও পরে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের টুইটে তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়। ধনকড় জানান, অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে তিনিই দার্জিলিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একদিনের জন্য তিনি দার্জিলিংয়ের রাজভবনের আতিথেয়তা গ্রহণ করবেন। সেই মতে এদিন দুপুরে দার্জিলিং রাজভবনে হাজির হন হিমন্ত। রাজ্যপালের সঙ্গে ইতিমধ্যেই একদফা কথা হয়ে গিয়েছে তাঁর।
অন্যদিকে হঠাত্‍ দার্জিলিংয়ে হিমন্তকে ডাকার অন্য তথ্যও বেরিয়ে আসছে।

রাজ্যপাল পাহাড়ে গিয়েছেন জিটিএ’র শপথ অনুষ্ঠানে। শপথের পর জিটিএ’র নতুন বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে আলোচনাও করবেন তিনি। শোনা যাচ্ছে, স্ব-শাসিত পরিষদ (জিটিএ) বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে বসার আগে এই ধরনের স্বশাসিত সংস্থার কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে চান রাজ্যপাল। সেকারণেই অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে দার্জিলিংয়ের রাজভবনে ডেকেছেন। আসলে অসমে জিটিএ’র মতো বেশ কয়েকটি স্বশাসিত সংস্থা আছে। যার মধ্যে সদ্য কারবি আংলং টেরিটোরিয়াল অথরিটির নির্বাচন হয়েছে। যাতে বিজেপি বিপুল ভোটে জয়ীও হয়েছে।

অন্য একটি সূত্র বলছে, বাংলার রাজ্যপাল এই টেরিটোরিয়াল অথরিটি গুলির কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিশদ জানতে চান অসমের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।
তাই নাকি বৈঠক!!

Latest Updates

RELATED UPDATES