Wednesday, September 28, 2022

৩ দফা দাবিতে স্মারকপত্র দিল করিমগঞ্জ AIDSO


সুরজ রায়, করিমগঞ্জ : আজ অল ইন্ডিয়া ডি এস ও’র করিমগঞ্জ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে অতি সম্প্রতি আসামে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে তিন দফা দাবিতে জেলা উপায়ুক্ত মারফত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী র নিকট এক স্মারকলিপি প্রদান করে। দাবি সমূহ হলো

১/ বন্যাক্রান্ত প্রতিটি পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে এবং প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে বিনামূল্যে বইপত্র প্রদান করার পাশাপাশি এক লক্ষ টাকা এককালীন সাহায্য করতে হবে।
২/ভয়াবহ বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি ফিজ সহ সব ধরনের ফি মুকুব করতে হবে।
৩/মেট্রিক ও হায়ার সেকেন্ডারি উত্তীর্ণ প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী যাতে পরবর্তী শ্রেণীতে ভর্তির সুযোগ পায় তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

এই তিন দফা দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের করিমগঞ্জ জেলা সভাপতি সুজিৎ কুমার পাল। তিনি উপায়ক্তকে স্মারকলিপি প্রদানের পর সাংবাদিক বন্ধুদের সামনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন যে, আমরা
অল ইণ্ডিয়া ডি এস ও’র আসাম রাজ্য কমিটি গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্ৰতিক সময়ে দু-দুবারের প্ৰলয়ঙ্করী বন্যায় রাজ্যের ৩২ টি জেলার প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ অকল্পনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার দু’শোর বেশি মানুষের বন্যার জলে ডুবে মৃত্যু হওয়ার পাশাপাশি বহু রোগী বন্যার কবলে পড়ে চিকিৎসার অভাবে জলবন্ধী অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এছাড়াও হাজার হাজার ঘর-বাড়ী, প্ৰয়োজনীয় নথিপত্ৰ, আসবাবপত্র ইত্যাদি বন্যার জলে ডুবে  মানুষকে সৰ্বস্বান্ত করে দিয়েছে। সরকারি তথ্য মতে ২০ হাজারের অধিক ঘর ক্ষতিগ্ৰস্ত হয়েছে এই ভয়াবহ বন্যায়। গবাদি পশু, শষ্য ক্ষেত, মাছের পুকুর, ছোট দোকান, কারখানা ইত্যাদির বিস্তর ক্ষতি সাধনের ফলে সাধারণ মানুষ উপাৰ্জনহীন হয়ে পড়েছেন।

এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, সরকার যদি বৰ্তমান পরিস্থিতির সম্যক উপলব্ধি করে সঠিক পদক্ষেপ গ্ৰহণ না করে তাহলে আগামী দিনে রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ দুৰ্যোগ নেমে আসবে।

তিনি আরও বলেন যে, অসংখ্য ছাত্ৰ ছাত্ৰীর ঘর-বাড়ী এখনও জলের তলায় রয়েছে। এই অবস্থায় তাঁদের বই পত্র সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বহু ছাত্ৰ ছাত্ৰী এখনও আশ্ৰয় শিবিরে রয়েছে। বহু লোক আশ্ৰয় শিবির থেকে ঘরে যেতে অনিচ্ছা প্ৰকাশ করেছে কারণ বৰ্তমানে তাদের ঘরবাড়ির কোনো অস্তিত্বই নেই বললে চলে।যারা আশ্ৰয় শিবিরে যেতে পারেনি তারা নদী বাঁধে, উচু স্থানে বা কারোর বিল্ডিং এর ছাদে খোলা আকাশের নীচে দিনযাপন করছে। সৰ্বস্বান্ত হওয়া পরিবারের ছাত্ৰ ছাত্ৰীদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাওয়া প্রায় অসম্ভব, ফলে অসংখ্য ছাত্ৰ ছাত্ৰীর পড়া-শুনা হয়তো মাঝপথেই থমকে যাবে।

এছাড়াও মেট্ৰিক পরীক্ষা ও হায়ার সেকেন্ডারি ফাইনেল পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর এই প্ৰলয়ঙ্করী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়াতে বহু ছাত্ৰ-ছাত্ৰী ভৰ্তির আবেদনও করতে পারেনি। এসব ছাত্ৰ ছাত্ৰীরা যাতে ভৰ্তির সুযোগ পায় তার ব্যবস্থা গ্ৰহণ করতে সরকারের দৃষ্টি আকৰ্ষণ করছি।

পাশাপাশি বন্যা কবলিত এলাকার বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় এবং যেগুলোতে আশ্রয় শিবির তৈরি হয়েছে সেগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। বন্যায় ক্ষতিগ্ৰস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্রুত মেরামত করা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরী।

আজকের এই স্মারকলিপি প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য জয়দীপ দাস, রাজদীপ দাস, দীপক রায়, সোনালী নাথ সহ আরোও অনেকে।

Latest Updates

RELATED UPDATES