Tuesday, December 6, 2022

জানি সব জায়গায় ত্রাণ পৌঁছয়নি, তবে মানুষ খুশি : শিলচর ঘুরে বলে গেলেন হিমন্তবিশ্ব

নিজস্ব প্রতিবেদন : প্রবল স্রোতের জায়গাগুলিতে না গেলেও রবিবার সকালে নিউ শিলচরের রাঙ্গিরখাড়ি, চাঁদমারি, মালিনিবিলের পেছন দিক সহ বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে ঘুরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ভুক্তভোগী এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথা বললেন তিনি। জেনে নিলেন তাদের দুঃখ দুর্দশা।

এরপর জেলাশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে করলেন একটি পর্যালোচনা বৈঠক। সবশেষে সাংবাদিকদের বলে গেলেন, ‘সব জায়গায় ত্রাণ পৌঁছানো না গেলেও শিলচরের মানুষ কিন্তু খুশি। দুর্ভোগ আছে, তবে দুর্ভোগ আর অভিযোগ তো এক নয়।’ সাংবাদিকরা বারবার বলেছেন, পাবলিক স্কুল রোড, সোনাই রোড সহ বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে এখনপর্যন্ত সরকারি মদত পৌঁছয়নি। দেখা যায়নি এনডিআরএফ, এসডিআরএফ। এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে মানুষের মধ্যে। শুনে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, ‘ত্রাণ পৌঁছানোর গতি ত্বরান্বিত করা হয়েছে। এখন ওই জায়গাগুলিতেও মদত পৌঁছে যাবে।’

বেতুকান্দিতে যে দুষ্কৃতিরা বাঁধ কেটে এই ভয়াবহ বন্যাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আজ আবারও বলে গেলেন হিমন্ত বিশ্ব। তবে সাংবাদিকরা আরও কিছু প্রশ্ন করলে সেই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যদি সরকারী বা প্রশাসনিক স্তরে কোনও গাফিলতি থাকে, রেহাই হবে না। নিশ্চিতই তদন্ত হবে এবং সঠিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তবে আপাতত আমরা এই দুর্যোগ থেকে বেরিয়ে আসার দিকেই মনযোগ দিয়েছি।’ সেই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী ২৯ জুন থেকে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পরিস্থিতি যদি আবার নতুন করে জটিল হয়, সেটা কীভাবে সামলে ওঠা যাবে, সে নিয়েও রূপরেখা তৈরি করে রাখা হচ্ছে।

আগামীকাল বা পরশু থেকেই ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্যপরিষেবা চালু করা হবে। জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তার উড়িয়ে আনা হবে গোয়াহাটি থেকে। সেনার চিকিৎসকরাও থাকবেন। স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনও সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করে যান মুখ্যমন্ত্রী।

শহরে এই মুহূর্তে বাজারে কোনও নিয়ন্ত্রন নেই। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম আকাশ ছুঁচ্ছে। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন কাছাড়ের জেলাশাসক। যেসব প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে আমি সেসব গুয়াহাটি থেকে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেব। আশা করি শীঘ্রই বাজার দরে নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে।’

মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা সবাই এই দুর্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়েছি। কোনোদিন ভাবিনি এমনও হতে পারে। এতেই এত বড় বিপর্যয় দেখতে হচ্ছে। নইলে সবাই তো প্রস্তত হয়েই থাকতেন। এই বন্যা আমাদের সবাইকে শিক্ষা দিয়ে গেল। এ নিয়ে চার দিনে দুবার শিলচর সফর করলাম। ১ জুলাই আবার আসবো। প্রথম সফরে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বেড়েছে আমাদের আত্মবিশ্বাস। ফলে উদ্ধার সহ ত্রাণের কাজে আরও গতি আসবে, দেখবেন। সরকার, প্রশাসন, বিভিন্ন সংস্থা-সংগঠন যেভাবে হাত ধরাধরি করে কাজ করছে, এই দুর্যোগে সেটাই দরকার।’

Latest Updates

RELATED UPDATES